কলকাতা দেশ 

SIR in Bengal verdict in Supreme Court : এস আই আর নিয়ে শীর্ষ আদালতের কাঠগোড়ায় নির্বাচন কমিশন!

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক :  পশ্চিমবঙ্গে এস আই আর এর নাম করে অযথা সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি করা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ ১২ই জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে অভিযোগ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর চিঠিকে কতটা গুরুত্ব দেবেন জ্ঞানেশ কুমার তা বলা না গেলেও সুপ্রিমকোর্ট কিন্তু এই অভিযোগ কে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে। বাংলার এস আই আর নিয়ে ১২ জানুয়ারি সোমবার ছিল সুপ্রিম কোর্টে শুনানি। এই শুনানিতে বেনজীর আইনি লড়াইয়ের সাক্ষী রইল দেশের শীর্ষ আদালত।

নির্বাচন কমিশনের কাজের ধরন এবং স্বচ্ছতা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে কড়াকড়িভাবে নোটিশ ইস্যু করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিশনকে এই সমস্ত অভিযোগের লিখিত জবাব দিতে হবে।

Advertisement

আগামী ১৯ জানুয়ারি, সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সেদিনই জানা যাবে নির্বাচন কমিশন তাদের কাজের স্বপক্ষে কী ব্যাখ্যা দেয় এবং সুপ্রিম কোর্ট ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নতুন কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করে কি না।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই হস্তক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম সত্যিই নিয়মবহির্ভূতভাবে বাদ পড়ে, তবে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জবাব দেওয়ার জন্য দুই সপ্তাহ সময় চাইলেও আদালত তা মঞ্জুর করেনি। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে মাত্র এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।

এর প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন যে, কারও ব্যক্তিগত অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে আদালতের দরজা সব সময় খোলা রয়েছে। তবে তিনি ব্যক্তিগত কোনো নির্দিষ্ট বিষয় তুলে না ধরে আইনি দিকগুলো আলোচনার নির্দেশ দেন।

শুনানি চলাকালীন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, ভোটারদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। এমনকি “কেন আপনার ৬টি সন্তান?”—এমন অদ্ভুত প্রশ্নও করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

সময়সীমা বৃদ্ধির দাবি: ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধনের শেষ তারিখ ১৫ জানুয়ারি থেকে বাড়িয়ে আরও কিছুদিন করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।আনঅফিসিয়াল নির্দেশ: বিএলও-দের মাধ্যমে মৌখিক বা হোয়াটসঅ্যাপে যে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, তাতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।

আনঅফিসিয়াল নির্দেশ: বিএলও-দের মাধ্যমে মৌখিক বা হোয়াটসঅ্যাপে যে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, তাতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।

প্রবীণ নাগরিকদের ভোগান্তি: প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বয়স্ক নাগরিকরা, যাঁদের পক্ষে অনলাইনে তথ্য যাচাই বা নথি জোগাড় করা কঠিন।

মামলার অন্যতম আবেদনকারী তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন নতুন করে হলফনামা দিয়ে দাবি করেছেন যে, ত্রুটিপূর্ণ ও অসংগত প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়া ভেঙে পড়েছে।

আদালতে তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অদ্ভূত’ ও ‘বিস্ময়কর’ বলে অভিহিত করেন। সিব্বলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা লিখিত নির্দেশিকা জারির পরিবর্তে ফিল্ড লেভেলের কর্মীদের (BLO) হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের মাধ্যমে নির্দেশ পাঠাচ্ছে। তিনি আদালতে বলেন, “বাংলায় অদ্ভুত উপায়ে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। কোনও লিখিত নির্দেশ নেই, অথচ হোয়াটসঅ্যাপে নাম পাঠানো হচ্ছে এবং সেই ভিত্তিতে নোটিশ জারি হচ্ছে।”

সিব্বল আরও দাবি করেন যে, ‘ইলজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা অযৌক্তিক অসঙ্গতির অজুহাতে প্রায় ১ কোটি ৩২ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ